বৈশাখে উড়ে যাওয়া খড়কুটোর মতো বিপন্ন প্রেম

এই বৈশাখে তুমি এসোনা ,এই বৈশাখে ঝড় আসবে—-
এভাবেই প্রেম এবং প্রেমিকাকে আসন্ন ঝড়ের কবল থেকে বাঁচাতে চায় কবি মনের প্রেমিক। এই যে প্রেমিকাকে বাচানো ,তার জন্য স্পর্শকাতর ভালোবাসা ,তা কি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়? ভালোবাসা কি শেষাবধি বেঁচে াকে ? হয়ত থাকে কিংবা না । তবু প্রেম বেঁচে থাকে অমলিন বিশ্বাসে । আসে বৈশাখ ,ভয়ে ভালোবাসার মানুষ আশ্রয় নেয় বুকের পাজঁরে ।তবু হাতে হাত ধরে হেঁটে বেড়ায় বৈশাখী মেলার সারাটা অঙ্গন জুড়ে। তখন কোথা
দূর হয়ে যায় ভয় ,শত শঙ্কা ,আশঙ্কা। কেবল প্রেম আর প্রেমিকা ছাড়া মিথ্যে মনে হয় আর স-ব।
বৈশাখী ঝড়ের রাতে উতলা হয়ে উঠে কবিমন । মনটা শতত ব্যস্ত হয়ে উঠে কবিতার অবিরাম চাষাবাদে ।কবির নিভূত বেদনা লালন করে শব্দগুলি ধীরলয়ে কবিতা হয়ে উঠে ।কবিতার সেই সুধা পান করে রসনা তৃপ্ত করে কাব্য পিপাসু মানুষ।কবিতার দেশকাল আর সমাজের নানা ক্ষয়িঞ্চু প্রতিভা উঠে আসে আঙ্গিক বদলে । অনেক মনের যাতনা বেদনা পরিস্ফুট হয়ে উঠে কবির মনের কল্পনা আর কলমের আচঁড়ে ।কবিতার চাষাবাদ কি তবু থামে ? না আমি বলি থামেনা।প্রকৃত কবির কাব্য চর্চা থামার নয় । যাদের থামে তারা বিরল কবি প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত নয় ।তারা অন্য কোন গ্রহবাসী নাগরিক ,কিন্তু কবি নয়। কবিরা একটু অন্যরকম।তাদের আছে তুমুল অভিযান — গোপন প্রেমের রক্তক্ষরণ=== বেদনার্ত শব্দভান্ডার ভূল মানুষ ভালোবাসার যন্ত্রণাও—।তবে কি কবিরা মানুষ নয়?হ্যাঁ ,মানুষ বটে, তবে বড় বেশী মানবিক বড় বেশীরকম মানুষ—–।

মনে পড়ে সেইসব মেঘ,সেইসব প্রজাপতি—
বৈশাখ আসে বারবার ,আসে লাল নীল দীপাবলী,অজস্র অভিযান ,অভিমানিনী—পথ ছেড়ে দূরে যায় পথিক ।পেছনে পড়ে াকে অনেক স্মৃতি ,অনেক বেদনা ,অনেক দীর্ঘশ্বাস। তবু বৈশাখ আসে আসতে হয় প্রকৃতির নিয়মের স্বাভাবিকতায়। বৈশাখে ঝড় ও আসে নিয়ম করে ,নিয়ম বহিভূর্তেবারে। কিন্তু ফিরে যায় যে অভিমানিনী নীল নির্জনতায় । সে কি ফিরে আসে ।কই নাতো!তাকে তো আর ফিরে আসতে দেখা যায় না ।সে নতুন আশ্রয় খঁজে নেয় নতুন কোন বুকে আজীবনের স্থায়ী চুক্তির শর্তে। পেছনে পড়াকে সে সাবেক ভালোবাসার জন্য করে ?প্রশ্নটা
াক ,উত্তরটা পাঠক আপনার /আপনাদের কাছে তোলা রইল,উত্তরটা যে যার মতো তৈরি করে নিবেন ,নিজের জীবনের সাে মিলিয়ে,নিজস্ব ছন্দ,নিজস্ব গদ্য,আর আপন জীবনের নিয়ম মেনে নিয়ে—।লেখক তো আর জীবনের গভীরতম প্রদেশে প্রবেশ করতে পারে না ,ওখানে প্রবেশ করার নিয়ম ,কত বাধ্যবাধকতা ,এত সব নিয়ম মেনে চলা কি কোন তরুণতম লেখকের পক্ষে সম্ভব?

এই বৈশাখ বলুক –বেঁচে থাক মুক্ত বুদ্ধি-মুক্তচেতনা
হুমায়ুন আজাদ শুয়ে আছে ব্যাংককের হসপিটালে।চোখ দুি জানালার বাহিরে–সেইচোখ–যে চোখ সমুদ্র থেকে চুষে নেয় লবনাক্ততা,সূর্য থেকে চুরি করে নেয় দাউদাউ আগুন আর মাটির গভীর থেকে শেকড়ের প্রতি জন্মজটান ।এবারের একুশের বই মেলায় তার সাথে যখন দেখা হয় কুশল বিনিময়ের পর জানতে চেয়েছিলেন- “কেমন আছে আমাদের পাহাড়?পত্রিকার খবর দেখে তো ভালো মনে হচ্ছে না”।উত্তরে আমি নিশ্চুপ ছিলাম , কেননা আমি জানি এই প্রশ্নের উত্তর তার বেশ জানা আছে। অথচ এর মাত্র একদিন পরই সেই ভয়াবহ হামলা । মুক্ত চেতনার উপর হামলা , মুক্ত বুদ্ধির উপর হামলা ,মুক্ত মানুষের উপর হামলা। গর্জে উঠে সারা দেশের প্রতিবাদী মানুষ । শিল্পী ,সাহ্যিতিক ,ছ্াত্র ,জনতা— সবাই। মৃত্যুর মাত্র এক সেকেন্ড দূরত্ব থেকে ফিরে আসা হুমায়ুন আজাদ যে আরো কত দঃসাহসী লেখক হতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে খুব শীঘ্রই,সম্ভবত আসছে বৈশাখের আগেই।এই লিখতে না পারার শূন্যতা তিনি পূরণ করে দেবেন আসছে বৈশাখে।এই আশাবাদ রইল ।আগামী ফাগুন এই নব চেতনার আগুন জ্বালাক প্রতিবাদী সব মানুষের মনে- মননে।লক্ষ লক্ষ হুমায়ুন আজাদ প্রস্তুত হচ্ছে ঘরে ,প্রতিবাদের ফানুস উড়বেই আমাদের এক লক্ষ চৌচল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটার আকাশ জুড়ে ।তাইতো আজ গাই-ভোর হয়নি আজো হলো না,কাল হবে কিনা তাও জানা নেই,পরশু ভোর ঠিক আসবেই,এই আশাবাদ তুমি ভূলো না——-।
বৈশাখ আসে আমাদের পাহাড়ে ও,ভিন্নতর আঙ্গীকে,সংস্কৃতির বৈচিত্রতায়।নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পূজারিনী হয়ে উঠে আদিবাসী কিশোরী ,ঠিক সনাতন ধর্মের পূজারিনী কিশোরের মত ।মিলে মিলে একাকার হয়ে যায় আদিবাসী –সনাতনী বাঙালী কিশোরীরা।আমরাৗ কি নই? যারা সংস্কৃতি আর সংস্কৃতিতে গড়ি মেলান্ধন!এভাবেই বৈশাখ আসে বারবার ,চেতনার ছড়িয়ে দেয় বেদনা,দীর্ঘশ্বাস ,পূজারিনী অভিমান ও কি নয়?

অতঃপর রাতগুলি ভোর হয় ——-
অতঃপর রাতগুলি পেরিয়ে যায় কিন্তু আমার ঘুম আসে না । কবিতার কামড়ে আমার আমি নিপতিত হই অনন্ত নিঃসঙ্গতায়,নির্জনতায়। পূনিমা রাতের জোছনা কেড়ে নেয় আমার নিজস্ব আমিটাকে । আমি আর ও বাড়তে াকি ,লম্বা হতে হতে আকাশের নক্ষত্র ছাদে মিলে যায় আমরা ঝাঁকড়া চুল করি মাথা। মাথার ভেতর নিউরন জুড়ে গিজগিজ করে কবিতা ,কবিতা মানবী অক্ষরগুলি শব্দ হয়ে কী এক অদ্ভুত দ্যোতনায় প্রসব যন্ত্রণার প্রগাঢ় বেদনা নিয়ে ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়ে শুভ্র মেঘের মত এর চিরচেনা কিশোরীর রাফ খাতার পৃষ্ঠাগুলি জুড়ে । পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা কবিতা লিখতে লিখতে আমি কবি হয়ে উঠি। আমার কবিতা হয়ে উঠে অজস্র কিশোরীর পথ চলার,ভূলে পড়ার ,প্রেমে পড়ার মন্ত্রণা। আমার আমিকে হারিয়ে ফেলি আমি, সেই চিরচেনা কিশোরী ওকী এক অদ্ভুত কষ্ট জাগানিয়া বেদনায় ক্রমশঃ দূরে সরে যায় ,কাছে আসে –অনেক অজানা অচেনা নানা বর্ণের ,নানা ঢঙে বিভোর হই ,বিমোহিত হই আমি ,এই সব নিঃস্পাপ ছোঁয়ায় ক্রমশঃ আমি বদলে যাই, ভূলে যাই নিজস্ব প্রজাপতিটির কথা । একদিন বিভোরতা ভাঙে আমার, ভাঙে প্রজাপতি রাঙ উৎসব ও। উৎসব শেষে যখন ফিরে যায় সকল রঙ-গন্ধ-গোত্রীয় প্রজাপতির তখন ্একান্ত প্রজাপতিটির খোঁজে আবার পথেনামি আমি –অনেক ক্লান্তি নিয়ে- পথ- পথ- র্দীঘপথ–আর শেষ হয় না—।

যে পথে ভূল করে এসেছি—সে পথ —
আমার নিজস্ব পথ কোনটি?কোথায় কোন নদীর বাকে পড়ে আছে আমার পূর্বপুরুষের স্মৃতিময় ঐতিহ্যিক পদধূলি ?পথ এবং পথিকের মত আমার ও কি স্মৃতির পাজর কেটে কেটে অন্য কোন জোসনার খোঁজে ,স্মৃতির খোঁজে ,পথচিহেৃর খোঁজে ঘুরতে হবে পরিব্রাজকের মত পথ থেকে পথে ,এক জনপদ থেকে অন্য কোন জনপদে। পেছনে ফেলে অজস্র স্মৃতি ,কবিতা ,কবিতা মানবীর,প্রিয় এক কিশোরী প্রজাপতির ।

Check Also

ছুঁয়েছো মেঘ তুমি,ছোঁওনি বৃষ্টি…

এরপর তোমার সাথে আর কোন কথা থাকেনা। আমি আমার নিজস্বতার শব্দ বুনে বুনে একা একা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four + five =