পরাজয় অথবা সেক্রিফাইসের আড়ালে……..

সেই প্রথম শুরু ঘোর লাগা গহনের কাল । দুরন্ত বালক বেলা। লাজুক দুচোখে প্রজাপ্রতির রঙ স্বপ্নরা খেলা করত নিশি দিন। কাধে বইয়ের ব্যাগ নামক বোঝাটি চাপিয়ে বির্দ্যাজনের নিমিত্তোাসা যাওয়া চলছিল বিদ্যামন্দিরে। চশমার ফাকগলে বিদ্যাগুরুর স্বপ্নরা আমাদের ক্রমশঃ গ্রাস করে “লেখা পড়া করে যে —–। ”অন্যদের তুলনায় মাথাটা বোধ হয় ভালোই ছিল আমার , তা না হলে পন্ডিত মশাই কেন অন্যদের বাদ দিয়ে নাদুসনুদুস এই আমােেক স্লান করাত প্রতিনিয়ত স্নেহের জলে। একদিন টিফিন কালে , সবসাথীরা যখন মাঠে দাড়িয়াবান্দা – গোল্লাচুটেব্যস্ত , তখন র্নিজন ক্লাসের জটিল অংকের সরলী করনে নিমগ্ন আমার মৌনতা কে র্স্পশ করে গেল এক সহপাঠিনীর মিষ্ঠি কন্ঠ।ক্লাসের সবচে আদুরে মেয়ে সিঁথি বলল – র্অক , “আমার অংকগুলো করে দিবে? আমি তোমাকে একটা জিনিস দিব , একটা দামি উপহার । ” সেই ছেলেবেলায় কেমন যেন লোভী আর র্স্বাথপর ছিলাম আমি । আমি সিঁথি অংকগুলো করে দিয়েছিলাম। কেবল সেই দিন নয় , এমনি করে প্রতিদিন ।সারাটা প্রাইমারি জীবনআমি সিঁিথর অংকগুলি করে গেছি । আর সিঁথির গায়ে ভালো ছাত্রীর লেবেলটা ক্রমসঃ স্পষ্ট থেকে স্পষ্ট হয়েছে। একদিন মকে দাড়িয়ে দেখি শেষ হয়ে গেছে আমার প্রাইমারী বেলা। বাবার বদলীসুত্রে সিঁথিরা ও চলে গেছে কোন দুর শহরে, হয়ত জীবনের তাগিদে উপাওয়া হলো না উপহার পাওয়া হলোনা আমার ।এখন কোথায় কেমন আছো সিঁথি ? এখন ও কি অংকে র্দুবল তুমি ? তোমার স্মৃতির ঝোপে –ঝারে এখনও কি প্রতিদিন অংক কষে দেয়া বোকা বালকটির কোনস্মৃতি ভেসে আছে???

‘কৃঞ্চচুড়া বিহরে উড়ে, রাধাচুড়ো চৈত্রের ধুলো
কোনশোকে পাতা ঝরে , ঝরে আমার বিষন্নতাগুলি’
কালের নিয়মেই বহতা নদীর মত বয়ে যায় যাযাবর সময়। তখন আমি ক্লাসের আটক্লাসের ছাত্র । হৃদয়ের ভেলাভুমিতে ততদিনে কবর রচিত হয়ে গেছে সিঁিথর স্মৃতির। ভালো ছাত্রের সাইন র্বোডটা তখনও বহাল তবিয়তে। একদিন বৃত্তিক্লাসের এক অপরূপা বালিকা এসে হাজির । শিক্ষক পরিচয় করিয়ে দিলেন ‘লাবন্য, তোমাদের নতুন সহপাঠীনি । আমার চোখে তখন অন্য আগুন , ভিন্ন আকাশ মস্তিস্কের নিউরেন সেলে । সেই মুর্হুতে তেকে অপ্সরাকে আমার ভালো লাগার ,ভালোবাসার শুরু । মেয়েটি অহংকারী এবং প্রচন্ড এক রোখা। স্বভাব বুঝে নিতে সময় লাগেনি আমার । তার এই অহংকার আর একরোখা স্বভাবাটই আমার ভালো লাগত । শক্ত পাথর ও ক্রমশ ঃ ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়, লাবণ্যতো স্রেফ মানবী। শুরু হলো আরেক – জীবন আরেক গল্প । স্কুল ফাঁকি দিয়ে শুরু হলো উদ্দাম প্রেম। মফস্বলের প্রেমে যা হয় তাই হলো । এই ছোট্ট পাহাড়ী শহরের মুখে মুখে রটে গেলো আমাদের কাহীনি । স্কুলের ছাত্র Ñ শিক্ষক থেকে শুরু করে বাদ পড়লোনা তার ও আমার পরিবার পরিজন।
থেমে াকেনা সময় । মেঘে মেঘে কেটে যাওয়া এমনি এক দুঃখবতী কাল বেলার কেটে যায় সর্ম্পকের সুতো। সিঁিরি মতো লাবন্যনারা ও চলে যায়বদলী হয়ে গোমতী পাড়ের শহরে।নাটাই আর ঘুঢ়ির মাঝে সর্ম্পকের বুনন সৃষ্টিকরে যে সুতা সেই সেই সুতা ছিড়ে নিয়ে ঘুরিওয়ালাকে নিঃষঙ্গঁ করে দেয় আমার (ঘুড়িওয়ালা)প্র্মেী র্পুনিমা জীবনে আমার নেমে আসে অমবস্যার রাত। ভুল রমনী ভালোবাসার বিষে বিষে নীল হয় নিশ্চিত বিরহী সময়। এখন কেমন আছো লাবন্য?প্রতিশ্র“তি ভঙ্গের বেদনা কি এতটুকু পোড়ায় না তোমাকে।

‘চার দেয়ালের সংসারী ছকে বন্দী বলছে কথা
এখনো গোপন রক্তক্ষরনে, বৃষ্টির মুখরতা’
চুরানব্বই সাল । সদ্য এস এসসি পাস করে কলেজে উঠেছি । চোখে তখন বর্নিল স্বনের বুনন । রঙধনু ভেসে বেড়ায়হৃদ দিগন্তে। ফাষ্ট ইয়ারের৫/৬ ম্স কেটে গেছে তখন।এমনি এক বৈরাগী সময়ে একদিন গালে হাত সে াকতে দেখি এক বিষন্ন মেঘ বালিক কে। সেই অর্পুব বিষন্ন সুন্দরীর অদ্ভুদ মৌনতা ছুয়ে যায় আমাকে। খোজ নিয়ে জানতে পারলাম আমাদের মানবিক বিভাগের সহপাঠী সে । হৃদক্যানভাসে পুরনো মুখগুলি ধসুর হয়ে Ñ আকা হতে শুরু করে এক বিষন্ন মেয়ের মুখ। আমি তখন ক্যাম্পাসের এক নবীন রাজনৈতিক র্কমী । মিছিল Ñশ্লোগান আর সমাজ বদলের স্বপ্ন মাতাল এই আমাকে আগে থেকেই চিনত সে, জেনেছি পরে। আমার চাওয়ার কোন এক অজানা মুর্হুতে চুয়ে গেছে তার আকাশে। তানা হলে আমার চোখে কি খুজত সে, আমার মত করে।কি জানিকি?অঙ্গীকার প্রতীতি , নাকি আহবান ।আমার চোখে তার চোখ , তার চোখে আমার চোখে । এভাবেই কেটে গেল কিছুটা সময়।
এরই মধ্যে একদিন ছাত্র সংঘষের জের ধরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলেজ ক্যাম্পাস। মিছিল পাল্টা মিছিল, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর, হামলা, ধ্বংসযঞ্জ- আহত অনেকেই।ক্যাম্পাসের নবীন রাজনৈতিক র্কমী এই আমি ওতো এই র্মমান্তিক হৃদয়বিদারক প্রক্রিয়ারই অংশ , ব্যস্ত হয়ে পড়লাম নিঝস্ব নিয়মে , রাজনৈতিক র্কমীরা যেমন হয়। এমন কঠিন বৈরীকালে প্রায়ে মাসাধিককাল দেখা হলো না আমাদের। দেখানা হলেই হয়ত ভালো হতো।ওকে র্দীঘদিন না দেখে থাকার কষ্ঠবীজ হয়তো ছিল আমার ভিতর , কিন্তু তা মহীরুহ হোক সেতো চাইনি আমি। কেউই চায়না।
সেদিনটা আর সব দিনের মত না। সেদিন ক্যাম্পাসে আমাদের সংগঠনের সন্ত্রাসবিরোধী জঙ্গী মিছিল। মিছিলের শ্লোগানিষ্ট ছিলাম আমি ছিলাম আমি। শ্লোগানে শ্লোগানে উম্মাতল ক্যাম্পাস ।হঠাৎ দেখি মিছিলের পাশ দিয়ে হেঠে যাচ্ছে জয়িতা । সাথে আমাদের এক সহপাঠী । একটু অন্যরকম, কিছুটা প্রত্যয়ী তারা। শ্লোগানে ভুল হয়ে গেছে আমার , অন্য আশংকায়। ভুমিকম্পের আগে যেমন পশুপাখিরা টের পায় সম্ভাব্য ধ্বংসযঙ্খেভীবৎসতা। আমিও কি….। মিছিলের মুখঘুলি সব আমার দিকে । শ্লোগান শুধরে নিলাম আমি , অন্য এক শ্লোগাি ষ্টের সহায়তায় । মিছিল শেষে জেনে গেছি আমার আশংকা মিথ্যে না।
সেই আমার শ্লোগান শুদ্ধতার শুরু । আর কোনদিন ভুল হযনি ঘভীর অভিমান অথবা অবিশ্বাসী অঙ্গীকারে। এরপর কতদিন প্রেমাকে দেখিছি যুঘল, কলেজে নানা প্রান্তে, র্নিজনতায়  অশ্লনিতায় । কি জানি কেন প্রথম প্রথম বুকের ভেতর প্রচন্ড খোব জমে উঠত। না মুর্হুতক্ষন পর মেনে নেই সেই আশৈশবের শিক্ষা ‘সেক্রিফাইস,।
বছর কয়েক পর আমেরিকা প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয়ে যায় ‘জয়িতা,। আমার সহপাঠী অতঃপরবিরহী প্রেমিক । আর আমি? হাঃ হাঃ হাঃ। সময়…

বেলা বয়ে যায়—–
না, আমার গল্প (নাকিজীবন গাথা) এখনো শেষ হয়নি। আবারও পরির্বতিত সময়ে আড়ালে দাড়িঁয়ে মুচকি হাসে জীবণ। আকালের এই কালে মিছিল থেকে বহুদুরে আমি । হোটেল পরিচয়ের আড্ডায় ও প্রান পাইনা। ‘ আপোষ না সংগ্রাম ’পরিচিত এই শ্লোগানের ‘আপোষ’ টাকেই কাপুরুচিতবাবেই মেনে নিই । মিচিলের সহযোদ্ধারা ভুল বুঝে । আমি বলতে পারি না গোপন গহন স্রোতের টানে কেন বেসে যাই অবহেলায় , অভিমানে। কেউ বোঝেনা কেউ বেদনা নিয়ে মিছিলের কিশোর আজ বিশ্বায়ন(বেশ্যায়ন) এর ক্রীতদাস ।আর সেই প্রতিবেশী কিশোরী ভালোবাসার শপথে যে আমাকে করে তুলেছিল মিছিল বিমুখ , আপোষকামী- সেও বেছে নেয় নিজস্ব পথ ।সমাজ প্রথার কথিত সীমাব্ধতা আর নিজস্ব সাহসহীনতার অজুহাতে ক্যারিয়ারের টিপ কোপালে চড়িয়ে বিচ্ছেদের করুন সুর শোনায়। আমি ও মেনে নিই , মেনে নিতে হয়। তবু জীবনের শেষ র্পবে এই প্রতিবেশী মেঘ কেমন আধার করে দেয় আমার নিজস্ব পৃথিবী ,এলোমেলো হয়ে যায় সব। আড়ালেই থেকে যায় অধরা । ধরা যায় না ছোয়াঁ যায় না ,দেখাৗ যায় না । একদিন বিক্রি হয়ে যায় অধরা । তবুও পাতাবাহারের বৈচিত্র্য ঘেরা বাড়ীটা দেখলে বুকের ভেতর দ্বপ করে জ্বলে ইঠে থৈ থৈ শত জোৎস্নার জল । কে যেন বলেছিল “সৎ ভাবে কিছু চাইলে কোন দিন না কোনদিন তা পাওয়া যায়”। না,আমি তা বিশ্বাস করি না । কখনো না, কোন দিন ও না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − 13 =