আমাকেও কেউ লিখত চিঠি ,ভালোবাসায়…বেদনায়

অনেক ভাবেই ,বিচ্ছিন্ন আঙ্গিকে ,নিজস্ব ভঙ্গীতে গল্পটার যাত্রা শুরু হয়। অনেকটা চিঠির মত কিংবা চিাঠর খসড়ার মতো ।মেয়েটি নিজের মতো করে লিখে নিজের চিঠি। পোস্ট বক্রে ফেলে না ।জমে থাকে চিঠি বালিশের নীচে । ভ্যানিটি ব্যাগে ,বইয়ের ভাঁজে । কোন কোন চিঠি প্রিয় বান্ধবীর হেফাজতে । চিঠিগুলো পৌঁছায় না প্রিয় মানুষটার কাছে ,প্রিয় কোন ঠিকানায়।তবু ও গল্পের প্রয়োজনেই আমরা জেনে যাই কোন কোন চিঠির ভাষা ,বক্তব্য,দাঁড়ি ,কমা ,সেমিকোলন! অজ্ঞাত এবং দূর্বোধ্য ভাষার লেখা কিছু চিঠির অনুবাদ ঠিক কি রকম তা আজ আর বড় বেশি ভাবায়না। তবু কিছু আর কিছু নাটকীয়তার সংলাপের অনুবাদ নীচে দেয়া হরো পাঠকের জ্ঞাতার্থে। মেয়েটির সাথে দেখা হয়না বহুদিন। আর হবে কিনা আমি জানিনা। তবু কোন কোন বাদল সাঁঝে সেই প্রিয় মুখটি ভেসে উঠে হৃদক্যানভাসে বড় অবহেলায় অনাদরে—। ওর জন্য আজ আর মন খারাপ হয়না আমার। অথচ একদিন-একটি মুহূর্তও তাকে না দেখে থাকা ছিলো আমার জন্য পৃথিবীর কঠিনতর কাজ। হায়তে নিয়তি——–হায়রে মানুষ—–। একেই জীবন বলে । নাকি জীবন দহনের গল্প। সব গল্পের পেছনে আর একটি গল্প আছে, গল্প থাকে। আমাদেরও ছিলো ,আছে। আজ সে গল্প থাক। আজ চিঠির গল্প বলব। অদ্ভূদ সব চিঠি। খেয়ালী চিঠিওয়ালীর গল্প।
৪/১০/০৪
আমার সামনে ছড়ানো প্র্যাকটিক্যালের সব কাগজ ,রিপোটের ডকুমেন্ট-বেশ অগোছালো টেবিলটা আমার ।ঠিক সেই মুহূর্তেদাদুর ডাক -আমার কুরিয়ার এসেছে। খুব ভালো করেই জানি এ তোমার পাঠানো । চিঠিটা নিয়েই বরাবরের মত খুলে ফেললামÑমনে হচেছ আমাকে বলার জন্য তোমার কথাগুলো বুঝি দম আটকে মরেই যাবে।যখন ঘাম খুলে ভাজ খুলছি চিঠির ,মনে হলো তোমার পাঠানো কথাগুলি নড়ে চড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে –আমি এক নিঃশ্বাসে জেনে নেই তোমার কথা ।বারবার পড়ি পাছে যদি কিছু বাদ পড়ে যায় এই ভেবে ।
০২/০৯/০৪
এখন রাত ১টা ।জেগে আছো কি ? লিখতে বলেছো,কিন্তুু কি লিখব?অসময়ে ঝড়ে পড়া বৃষ্টিতে প্রকৃতি ও যখন অবাক করা দৃষ্টিতে নিঃশব্দে দেখে যায় এক হৃদয় কারা সৌন্দর্য তখন আমি ও অবসর খুজেঁ জানালায় এপারে বসে ভাবি আর কেউ না হোক আমার বন্ধু আমায় ভাবছে শত ব্যস্ততায় শত ভীড়ের মাঝে ও ।এই শান্তনাটুকুই মাঝে মাঝে খুবই বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে । ভালো থেকো ।
পুনশ্চঃ তোমাকে একটা কথা জানানো হয়নি ,আমি প্রতিদিন সকালে প্রকৃতিকে সুপ্রভাত জানাই । কারণ আমি বিশ্বাস করি প্রকৃতিই আমায় একমাত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ।জীবনে যা কিছু পাবার বা হারাবার সব কিছু সে ঠিকই সাজিয়ে রেখেছে আমার জন্য।
২৩/৮/০৪
খুব রাগ করে আছ ? আমি জানি আমায় নিয়ে তোমার অনেক ভাবনা । কিন্তু ু তুমিই তো আমাকে সবচে বেশি বোঝ ।আমার সহজাত প্রবৃত্তি তোমার অজানা ও নয় ।যখন আমার সব ভাবনাগুলি এলোমেলো মনে হয় তখন তুমি আমার অনেক বড় শান্তনা ।দূরে াক তবু ওতো আছ ।আমার একলা সংকটময় পরিস্থিতিতে পথ চলার অনেক বড় সাহস তুমি ।তুমি যখন অদ্ভুত করে অন্য এক জীবনের গল্প বলো ,বিশ্বাস কর ,পথ চলতে অন্য রকম একটা শক্তি পাই।
তোমাকে আট দশ জন ছেলের মতো ভাবতে আমার ভাল লাগেনা ।সেদিন তোমাকে খুউব বকা দিয়েছি বলে কি রাগ করে আছো? খুব খারাপ লাগছে এখন । জানি আমার ভালোর জন্যই বলেছো কিন্তুু । তুমি আমাকে এতদিন যেভাবে দেখেছো ,চিনেছো তার ভিত্তিতেই আমি, আমার সত্তা। সামান্যতম যদি বদলে যাই আমি তবে তুমি আমাকেই হারিয়ে ফেলবে ।সেই সাথে আমিও হারিয়ে ফেলব আমার সব স্বপ্ন আর শক্তি ।কান ধরছি ,আর কখনোই তোমাকে বকা দেব না । রাগ করে আছ এটা ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।
৩০/০৭/ ০৪
কি লিখব বলো? নতুন করে কি জানাবো? খাম খুলে আমার চিঠি স্পর্শ করলেই তোমার জানা হয়ে যাবে আমার বলা না বলা অনেক অনেক কথা।আমাদের সামনে অনেক পথ যেতে হবে অনেক দূরে । আমরা পৌছঁবো আমাদের লক্ষ্যে সবাইকে অবাক করে দিয়ে।তাইনা! তুমি লিখবে প্রচুর ,তোমাকে অনেক বড় লেখক হতে হবে Ñহতে হবে আরো অনেক কিছু ,আমার জন্য।তুমি আমার । এ আমার অনেক বড় পাওয়া । ভালো থেকো ,বদলে যেও না ।
১৪/১১/০৪
কেমন আছো? জানো ,আমি সত্যিই খুব একা ।কিন্তু ু এই একাকীত্বদূর করার জন্য আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। আমার একা থাকতেই ভাল লাগে ।আর তুমি তো আছোই । আমার নিজের জন্য সত্যিই কোন কিছুর প্রয়োজন নেই, কাউকে প্রয়োজন নেই। আমার মুক্ত বিহঙ্গ হতে খুউব ইচ্ছে করে । তুমি আমায় নিয়ে ভোবোনা । আমাকে জড়িয়ে গল্প তৈরি করা সহজ হতে পারে কিন্তু ু তা ভাসিয়ে# বেড়ানো সহজ হবে না । আমি সবার ধরা ছোঁয়ার অনেক বাইরে ।
০৬/০৮/০৪
শুভ জন্মদিন ।আমার সবটুকু ভাললাগা শুধু তোমার জন্য ।এর চেয়ে বেশি কিছু দেয়ার সাধ্য আমার নেই। আজকের সকাল শুধু তোমার জন্য । সারাটা- দিন- সন্ধ্যাÑরাত্রি তোমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে এসেছে আজ অভিবাদন জানাতে তোমাকে। আজ সূর্যের আলোর আনিতো স্পর্শে জেগে উঠা ফুলের কলি ,পাখিদের কিচির মিচির ,বাতাসির এলোমেলো খেলা ,প্রজাপতি –ঘাস ফড়ি্ ংএর
দুষ্টমী,অচেনা দুষ্ট রাখালের বাশির হৃদয়কাড়া সুর, নদীর বিরামহীন ছুটে চলা-নিস্তব্দ পাহাড়ের চোখে মুখে অজানা মিষ্টি মধুর আনন্দ ,ছোট্র শিশুর হাসি ,কিশোর দলের হাজারো দুষ্টমী ,কিশোরীর বড় সাজার আপ্রাণ চেষ্টা ,হঠাৎ রিমঝিম বৃষ্টিÑঘাস ফুলের সাথে সূর্যের গল্প করা ,বেলী ফুলকে ভালোবাসায় সিক্ত করে বষ্টির অভিমান ভাঙ্গানো ,প্রকৃতির অপরুপ রুপে সাজা ,গোধূলী বেলা পাখীদের নীড়ে ফেরা ,জোনাক পোকার প্রকৃতিতে প্রদীপ জ্বালানো –সাগরের হঠাৎ উত্তাল রূপ নেযা -তোমার কাছে াকতে না পারা চাদেঁর কষ্ট –এতকিছুর মাঝেও হঠাৎ মকে যাওয়া সময় সবই আজ তোমায় শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত ।প্রকৃতির এতো আয়োজনে আমার শুভেচছাটুকু হারিয়ে গেলেও কষ্ট পাব না আমি। তুমি আমার কে আমি নিজে ও জানি না । কখনও মনে হয় বন্ধু,না শুধু বন্ধু না তার চেয়ে বেশি কিছু ,অন্যরকম কেউ।তুমি এমন কেউ যাকে নির্দ্বিধায় সব কিছু ভাবা যায় ,বলা যায় অনেক কষ্টের কথা । তুমি এমনই থেকো সারাজীবন । যদিও জানি এমন থাকা হয়ে উঠবে না সব সময় –তারপরওচেষ্টা করো অন্তত ,আমার জন্য ,শুধু আমার জন্য এমন াকবে ।ঝুপঝুপ বৃষ্টি নামলেই মনে হবে তুমি আমার কথা ভাবছো কিংবা কবিতা লিখছো রাত জেগে।
পুনশ্চঃ তোমাকে মিস করছি খুব ।আমি কোনদিন তোমার কাছ থেকে দূরে যাব না ।এত দূরে তো অবশ্যই না যে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায় ।আমি জীবনে অনেক কিছু পাইনি বলেই প্রকৃতি আমাকে উপহার হিসেবে তোমাকে দিয়েছে।আমার অনেক কিছু না পাওয়ার বদলে যে তোমাকে পেয়েছি তাকে কষ্ট দিতে চ্ইা না এতটুকু । আমি ভাল থাকব কারণ তুমি আমার পাশে াকবে ।তুমি ভালো কে আমার জন্য অনেকের জন্য ।
চিঠিটা পড়া শেষ? এভাবে কতশত চিঠি জমে আছে কত যুবকের বিছানার নীচে ,ড্রয়ারে , লকারে ।অবহেলায় কিংবা নিপূণ যতেœ, চিঠিওয়ালীর বদলায়।চিঠি বদলায়না ।সাদা কাগজের জমিনের কালো অক্ষরগুলো যাবতীয় মিথ্যোচার ,আর প্রতারণার বিরুদ্বে প্রতিবাদ হয়ে দাড়িয়ে াকে ।অনেকটা সময় ধরে ।দিন বয়ে যায় । রাত ও।দীর্ঘশ্বাস বাড়ে ।বাড়ে রাত জাগার যন্ত্রণা ,কষ্টও ।এইসব চিঠির আড়ালের ইতিহাস আড়ালেই থেকে যায় ।জানা হয় না । জানেনা কেউই । আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোন না কোন বাঁকে জমে আছে চিঠি সংত্র“ান্ত জটিলতা কিংবা দুঃখ ও ।বুকের গভীরতম কোলে প্রদেশে লুকিয়ে রাখা চিঠি-চিঠিওয়ালী আর চিঠির সব শব্দগুলো আজীবন লুকিয়ে থাক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 1 =